Dr. S.K. Apu is a highly skilled cardiologist with extensive experience in the field of cardiology. He holds an MBBS degree and a D-Card specialization, showcasing his commitment to providing exceptional heart care. With a license number BMDC 15406, Dr. Apu is recognized for his expertise and dedication to patient health.
Previously, he served as a Senior Consultant at Mymensingh Medical College Hospital, where he honed his skills and contributed significantly to the field. Currently, Dr. Apu is the Chief Consultant and In-charge of the (CCU) at Nexus Hospital, where he leads a team in delivering top-notch cardiac care.
In addition to his medical practice, Dr. Apu has a passion for writing, allowing him to share his insights and experiences in healthcare. During his leisure time, he enjoys reading books and listening to music. A lover of Bangladeshi traditional food, he appreciates the rich culinary heritage of his culture. Dr. Apu’s commitment to his patients and the community is evident in both his clinical work and his personal interests.
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইংঃ ১৪ আশ্বিন, ১৪৩১ বাংলা

আমি একটি সত্য ঘটনা দিয়েই শুরু করি। রহমান সাহেব আতচিৎকারে বলতে লাগলেন আমার বুকের বাম পাশে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছে। ব্যথা ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা বুকে। গলা ও বাম হাতের দিকে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আমাকে বাঁচাও। মনে হয় আমার বুকে দশমনি পাথর । কে যেনো আমার বুকটা শক্ত করে বেঁধে রেখেছে । কথা বলতে পারছিনা। আমাকে বাঁচাও । মিসেস রহমান কিংকর্তব্যবিমূঢ় । রহমান সাহেব ক্রমশ্য জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন । হাসপাতালে আনতে আনতে শরীর নীল হয়ে গেলো । মুখে লেগে আছে খানিকটা বমি। শরীর ঠান্ডা। চিকিৎসকেরা ‘সিপি আর দেওয়ায় ব্যস্ত। দুর্ভাগ্য তখন সবকিছুই শেষ । জীবনাবসান অল্প বয়সেই উচ্চরক্তচাপ ও ভূড়িসর্বশ্ব রহমান সাহেব এখন লাশ । এই কিলিং ডিজিজের অপর নাম হার্ট এটাক। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় আমরা বলি “মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা এম আই । এ হার্ট এটাক যেনো ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুমাত্রা দ্বীপের সুনামি ঝড়ের মতো । সবকিছু তছনছ করে দিয়ে চলে যায় ।
আজ বিশ্ব হার্ট দিবস । প্রতিবছর হৃদরোগের কারণে পৃথিবীতে ১.৭৫ কোটি মানুষের অকাল মৃত্যু হয় । যার মধ্যে হার্ট ডিজিজ ও ষ্টোক হলো অন্যতম। বর্তমানে এটি মৃত্যুর এক নম্বর কারণ। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২.৩ কোটিতো দাঁড়াতে পারে । কিন্তু এ উপায়ে চলতে পারেনা । অনেক পরিবারের সদস্যরা হৃদরোগে আকান্ত হওয়ার ফলে মৃত্যুর হার বাড়ছে। হৃদরোগ হওয়ার অনেক ঝুঁকি আছে। পুরুষের ৪০ বছর আর মহিলাদের ৫০ বছর পার হলে হৃদরোগের ঝুঁকি এমনিতেই বেড়ে যায় । যারা ছোট বেলা থেকেই অপুষ্টিতে ভোগে, দরিদ্র তাদের মধ্যে হৃদরোগের আশংকা বেশী। যারা উচ্চরক্তচাপে ভোগে, যাদের রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল বেশী থাকে, কিংবা রক্তে বেশী চর্বি হয়ে রক্তনালী ক্রমশ বন্ধ হয়ে গেলে, বেশী বেশী চর্বি জাতীয় খাবার খেলে, দেহের ওজন বয়স অনুযায়ী অনেক বেড়ে গেলে বা মেদ ভুঁড়ি হলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশী । ধূমপান হৃদরোগের বড় কারণ । হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়বেই। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিংবা নিয়ন্ত্রনে রাখেননা তাদের ব্যথাহীন হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশী এছাড়া ডায়াবেটিসের সাথে দেহ মোটা হলে, অলম জীবন যাপন করলে, ইনসুলিন নিতে নিতে ‘ইনসুলিন রেজিমট্যান্স’ হলে রক্তনালিগুলো বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে হৃদরোগ বাড়িয়ে দেয়। যারা ভুঁড়িওয়ালা, সাথে উচ্চরক্তচাপ তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার বেশী। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায় ।
অতিরিক্ত রাত জাগা, সঠিক সময়ে না ঘুমানো, দুশ্চিন্তা, উত্তেজনা বা অতিরিক্ত রাগ আবেগ চাওয়া পাওয়ার অসামঞ্জস্য ও উচ্চভিলাসী চিন্তাচেতনা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এমনকি বিরূপ পরিবেশ, কর্মক্ষেত্রের অসুস্থ পরিবেশ, সমাজে সহযোগীতার অভাব ও মানসিক অবসন্নতায় হৃদরোগের আশংকা বাড়ে । হৃদরোগ থেকে বাঁচতে হলে আমাদের জীবনে কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন আনতেই হবে । বিশেষ করে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো চলতেই হবে ।
যেমন :-
১ । ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন করতে হবে সিগারেট, তামাকপাতা, জর্দা, গুল পরিহার করতে হবে। ‘ধূমপান ছাড়ার দুই বছরের মধ্যে হুদরোগের ঝুকি কমে যায়।
২। প্রতিদিন নিয়ম মেনে শারীরিক পরিশ্রম করুন । হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো উচিত । প্রতিদিন ৩০-৪৫ মি. হাটুন ।
৩। দেহের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলুন। অধিক ভোজনের ফলেই অধিক ওজন ।
৪ । খাদ্যভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। তেল, ঘি, গরু বা খাসির মাংস কম খাবেন। শাক সবজি, ফলমুল সালাদ বেশি বেশি খাবেন। চর্বি ও অতিরিক্ত মসলা ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবার খাবেন না । প্রচুর আঁশ সমৃদ্ধ খাবার খাবেন ।
৫ । অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বর্জন করুন। কারন লবনের সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়ায় ।
৬ । রক্তে উচ্চ মাত্রায় কোলেষ্টেরলের কারনে প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে। তাই কোলেষ্টেরলের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন ।
৭। ডায়াবেটিস সঠিক সময়ে, শনাক্ত করে তা নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। কারন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের হৃদরোগ জনিত মৃত্যুর হার প্রায় ৬০ শতাংশ ।
৮। মানসিক চাপ ও স্ট্রেস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন। বিশেষ করে সামাজিকতা, বই পড়া, যোগব্যয়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। মানূকে ভালো বাসুন হাসি, খুশি, আনন্দে থাকুন ।
হৃদরোগ কমে যাবে।
৯ । অতিরিক্ত রাত না জাগা এবং খুব দেরী করে ঘুম থেকে না উঠা উচিত। জোরে চিৎকার করা থেকে বিরত থাকুন । খাদ্য তালিকায় স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবারের পরিমান বৃদ্ধি করা, অধিকতর নিরাপদ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা, শারীরিক পরিশ্রম বুদ্ধি করা পর্যাপ্ত ঘুমানো এবং ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রায় ৮০% হৃদরোগ জনিত অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং হার্টকে সক্রিয় ও সুরক্ষার ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিন। আরো দীর্ঘজীবী, আরো ভালোভাবে সুস্থ হার্ট নিয়ে জীবন যাপন করুন।
সবাই ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
Subscribe to our newsletter to receive our latest news and updates. We do not spam.